× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:১১ এএম

কানের দুলের লোভে ছাত্রীকে হত্যা, পিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:১১ এএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

লোভে পড়ে নৃশংসতার বলি হলো ৯ বছরের এক অবোধ শিশু। কানের সামান্য সোনার দুলের জন্য মুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হন অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

​সোমবার (২০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রাম থেকে পুলিশ নিহত শিশু ও অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতার লাশ উদ্ধার করে।

নিহত স্কুলছাত্রীর নাম ফারজানা ইয়াসমিন (৯)। সে কাশিবাটি গ্রামের কৃষক ও ভ্যানচালক এনামুল হকের মেয়ে এবং ৪১ নং কাশীবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত ঝালমুড়ি বিক্রেতার নাম সুরাইয়া আক্তার। সে একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী ও প্রতিদিন ফারজানাদের স্কুলের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করত।

​স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে সুরাইয়া আক্তার শিশু ফারজানাকে দ্রুত স্কুলে আসতে বলে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা স্কুলে পৌঁছালে সুরাইয়া তাকে মুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সুরাইয়া শিশুটির হাত-পা বেঁধে কানের সোনার দুল ছিঁড়ে নেয় এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহটি নিজ ঘরের আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয়।

​দুপুরে ফারজানা বাড়ি না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরবর্তীতে স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে ফারজানাকে সুরাইয়া ডেকে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার পুতুল স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশকে অবহিত করেন।

​সংবাদ পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সুরাইয়ার ঘরের আলমারির ড্রয়ার থেকে লাশ উদ্ধারের চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারো ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাড়িটি ঘিরে ফেলে। উত্তপ্ত জনতা অভিযুক্ত সুরাইয়াকে আটক করে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা করে এবং তার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

​এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভের কারণে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পুলিশ দুজনের কারো লাশই উদ্ধার করতে পারেনি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ৯টার পর শিশু ফারজানা ও অভিযুক্ত সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

​নিহত শিশু ফারজানার খালা মরিয়ম বেগম বলেন, কানের সামান্য সোনার দুলের লোভে সুরাইয়া আমার ছোট বোনঝিটারে এভাবে শেষ করে দিল।

​কালীগঞ্জ থানার ওসি রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশু ফারজানাকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখার খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত সুরাইয়াকে পিটিয়ে হত্যা করে ও তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!