নোয়াখালী সদর উপজেলায় কিশোরদের সংঘবদ্ধ হামলায় মো. সেলিম (৫০) নামের এক কৃষক দল নেতা নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিম ওই এলাকার বাসিন্দা এবং ৪নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোর—সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এর জেরে সন্ধ্যায় সজল ও তার সহযোগীরা সেলিমের বাড়ির সামনে গিয়ে অন্তরের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে আসে। এ সময় শব্দ শুনে সেলিম নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে যান।
অভিযোগ রয়েছে, তখন হামলাকারীরা সেলিমকে ঘিরে ধরে মারধর করে এবং তার মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ছেলে শাকিল দাবি করেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেনও ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, সেলিম ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, রাতে তাকে হাসপাতালে আনা হলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার পুলিশ জানায়, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


