ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১২:০৫ এএম
ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ধানশালিক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে। কোনো টেন্ডার বা নিলামের অনুমতি ছাড়াই কয়েক লাখ টাকার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানশালিক ইউনিয়নের জনতা বাজার সড়কের পাশে এলজিইডির চলমান উন্নয়নকাজের সময় এসব গাছ কাটা হয়। রিকশাচালকের দোকান এলাকা থেকে ধানশালিক বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশের গাছগুলো সম্প্রতি কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন, সরকারি কোনো উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। পরে জানতে পারেন, কোনো টেন্ডার বা নিলাম ছাড়াই সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া এসব গাছ কাটিয়ে নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই এ ধরনের কাজ করেন এবং তার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বন বিভাগ বা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই জিয়া তার নিজস্ব লোকজন ও ভাগিনা ইয়াছিনকে দিয়ে গাছ কাটান। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্তের ভাগিনা ইয়াছিন গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, গাছগুলো আমার মামা কাটছেন। কোনো টেন্ডার বা নিলাম হয়নি। জনতা বাজারের পূর্ব পাশে খালের ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়ভাবে কাজ করা হচ্ছে। ওই কাজের জন্যই গাছগুলো কাটা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বলেন, জিয়াউল হক জিয়া এর আগেও সড়কের পাশের গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। এবারও অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।

অন্যদিকে, কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুদম পুষ্প চাকমা বলেন, বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগ ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না; বরং নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ লুটপাটের এমন ঘটনা আর না ঘটে।