× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:০২ এএম

শুঁটকির ভরা মৌসুমে মাছের আকাল, উৎপাদন ব্যাহত

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:০২ এএম

মাচায় শোকানো হচ্ছে শুঁটকি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মাচায় শোকানো হচ্ছে শুঁটকি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ অন্যতম প্রাচীন ও এখনো জনপ্রিয় একটি উপায়। মাছ শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে তাকে শুঁটকি মাছ বলা হয়। শুঁটকি মাছের স্বতন্ত্র গন্ধ ও স্বাদ রয়েছে। অনেকেই শুঁটকি মাছ খেতে খুব পছন্দ করেন। আবার কেউ কেউ এর গন্ধ সহ্য করতে পারেন না। তবে শুঁটকি ভর্তাসহ নানা ধরনের পদ অনেকের কাছেই অত্যন্ত জনপ্রিয়।

চলনবিলের মিঠাপানির পুঁটি, খৈলসা, চান্দা, ইচা, টেংড়া, গুচি, ক্যাকিলা, টাকি, শোল ও বোয়াল মাছের শুঁটকির কদর রয়েছে দেশজুড়ে। পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলার পাশাপাশি ভাঙ্গুড়া উপজেলা শুঁটকি উৎপাদনের জন্য বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।

নভেম্বর-ডিসেম্বর এলেই বিল ও নদীপাড়ে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত চাতাল বসিয়ে শুঁটকি উৎপাদনে নেমে পড়েন সংশ্লিষ্ট খামারি ও ব্যবসায়ীরা। কোনো ধরনের রাসায়নিক বা অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি উৎপাদনের চেষ্টা করছেন তারা।

দেশি মৎস্যভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলের উজান অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠের পানি নেমে গেলে শুঁটকি শুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের শ্রমিকরা। প্রাকৃতিক ও বিষমুক্ত উপায়ে শুকানো এসব মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।

তবে শুঁটকির ভরা মৌসুমেও কোথাও কোথাও মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণত তিন থেকে চার দিনের টানা রোদে মাছ ভালোভাবে শুকায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে একাধিক দফা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না মেলায় চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় শুঁটকি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও আড়ত থেকে মাছ সংগ্রহ করে তা শুঁটকির চাতালে নেওয়া হয়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নারী-পুরুষদের কর্মব্যস্ততা। মাছ পরিষ্কার, লবণ মাখানো, মাপজোখ, বহন করে মাচায় তোলা, শুঁটকি উল্টেপাল্টে নাড়া ও বাছাইসহ নানা কাজ চলে সারাদিন। চাতালে শোল, বোয়াল, খৈলসা, টাকি, টেংড়া, পুঁটি, শিং, বেলে, সরপুঁটি, ছোট চিংড়ি, বাইম ও চাপিলা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকানো হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার শুঁটকি ব্যবসায়ী আনছার আলী বলেন, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসই শুঁটকির প্রধান মৌসুম। একসময় উপজেলার খাল, বিল, পুকুর ও নদী-নালায় প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও এ বছর মাছ নেই বললেই চলে।

বেশ কিছুদিন ধরে শুঁটকি তৈরির জন্য পর্যাপ্ত মাছ মিলছে না। অবৈধভাবে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন কমে গেছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আজম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শুঁটকি শিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। টানা মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং কয়েক দিন সূর্যের দেখা না মেলায় শুঁটকি উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে। মৌসুমের শুরুতেই শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা কাজে নেমে পড়লেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!