ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভাঙ্গুড়ায় ৪ যুগ ধরে একই মসজিদের ইমাম আশরাফ আলী

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় যে কয়েকজন প্রবীণ আলেম রয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হাফেজ আলহাজ্ব মাওলানা আশরাফ আলী (৬৩)। তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরিচালনাই নয়, এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে ইমামতির এই বিরল দৃষ্টান্ত এলাকায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্থান তৈরি করেছে।

মাত্র ২০ বছর বয়সে, ১৯৮৩ সালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদের ইমামতি শুরু করেন বর্ষীয়ান আলেম হাফেজ আশরাফ আলী। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ প্রায় চার যুগ। ইমামতির পাশাপাশি সুবক্তা হিসেবেও তিনি বেশ পরিচিত। বিভিন্ন মসজিদে ইমামতির প্রস্তাব পেলেও মুসল্লিদের ভালোবাসা এবং মসজিদের প্রতি তার মহব্বতের কারণে তিনি তা ছেড়ে যাননি। ফলে দীর্ঘ ৪৩ বছর একই মসজিদে ইমামতি করে তিনি মুসল্লিদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে।

ইমাম হাফেজ মাওলানা আশরাফ আলী ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের উত্তর মেন্দা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিশিষ্ট আলেম ও সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদের সাবেক ইমাম মরহুম ক্বারী ছানাউল্লাহর ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

স্থানীয় মুসল্লিদের কাছে হাফেজ মাওলানা আশরাফ আলী একাধারে ইমাম, অভিভাবক এবং আস্থার প্রতীক। অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র এই মানুষটি ছোট-বড় সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতে ভালোবাসেন। দীর্ঘদিন ধরে একই মসজিদে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ইমামতির দায়িত্ব পালন করায় তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন মুসল্লিরা। তার খুতবা, নীতি, প্রজ্ঞা এবং নিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

ভাঙ্গুড়া পৌরসভার চৌবাড়ীয়া মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সামাদ মাস্টার বলেন, এই মসজিদে একাধারে ৪৩ বছর ইমামতি করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন মাওলানা আশরাফ আলী ভাই। তিনি মুসল্লিদের সুন্নাহ অনুযায়ী আমলের শিক্ষা দিয়ে আসছেন। তার বয়ানের সময় হালাল, হারাম, সুদ, ঘুষসহ ইসলামের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। মুসল্লি হিসেবে আমরা তার বয়ান শুনে আমল করার চেষ্টা করি।

এ ব্যাপারে হাফেজ আলহাজ্ব মাওলানা আশরাফ আলী দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে কয়েক যুগ ধরে এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। এখানকার মানুষজন শুধু নয়, মাটির সঙ্গে আমার এক ধরনের মায়া ও মহব্বত তৈরি হয়েছে, তাই মসজিদ ছেড়ে যেতে পারিনি। আমি মুসল্লিদের মহব্বত, ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে মুগ্ধ। তিনি ইমানের সাথে বাকি জীবন এই মসজিদের ইমামতি করে যেতে চান।