ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সমগ্র বাংলাদেশই আমার ঠিকানা : ডা. শফিকুর রহমান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
বাউফল পাবলিক মাঠে জামায়াতের সমাবেশ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

আমার কোনো ঠিকানা নেই, সমগ্র বাংলাদেশই আমার ঠিকানা। বলতে পারেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশ’ তো ট্রাকের গায়েও লেখা থাকে? হ্যাঁ, আমি হলাম সমগ্র বাংলাদেশ। সরকার গঠন করতে পারলে আমি আপনাদের ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দেব বললেন ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাউফল পাবলিক মাঠে ১১-দলীয় জোট কর্তৃক দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নতুন সূর্য উঠবে। আর সেই সূর্যের আলোয় আমরা যদি আলোকিত হতে পারি, কথা দিলাম—আমাদের কাছে আপনাদের কিছু চাইতে হবে না। আমরা এসে আপনাদের চাহিদা পূরণ করে দেব।

তিনি আরও বলেন, দাঁড়িপাল্লা হলো ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। এ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে দেশে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট থাকবে না। মা-বোনেরা ইজ্জত নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে এই বাংলাদেশে যারা সরকারে ছিলেন, তারা এমন কোনো অপকর্ম নেই যা না করেছেন। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। আমরা যদি আপনাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে এই পাচারকৃত সব টাকা ফিরিয়ে আনব এবং তা দেশের উন্নয়নে ব্যয় করব।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন। একটি হলো ‘হ্যাঁ’ ভোট, আরেকটি হলো মার্কায় ভোট। হ্যাঁ ভোট দিলে এ জাতি গোলামি ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি পাবে। আর না ভোট দিলে এ জাতি দাসত্বে পরিণত হবে, আপনাদের স্বাধীনতা খর্ব হবে। তাই আসুন, দেশকে গোলামি থেকে মুক্ত করতে হ্যাঁ ব্যালটে ভোট দিই। পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লা মার্কাসহ জোটের মার্কায় ভোট দিয়ে একটি নতুন দেশের সূচনা করি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সরকার গঠন হলে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না। কেউ দুর্নীতি করলে গলার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে বের করে নিয়ে আসব।

সমাবেশে বাউফল আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমি সব সময়ই আপনাদের পাশে ছিলাম, সব সময় পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করলে আমি এ উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে নদীভাঙন। আমি নির্বাচিত হলে ভাঙনকবলিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন করা হবে। ইউনিয়নভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করে উন্নয়ন করা হবে। মা-বোনদের জন্য সুরক্ষা সেল গঠন করা হবে। বাউফল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাবির ভিপি সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে পটুয়াখালীর মোট চারটি আসনসহ বরগুনার একটি আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ভবনের বারান্দা ও ছাদে  মানুষকে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।