ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কৃত্রিম পায়ের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রতিবন্ধী ইসমাইল

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

এক পা হারিয়েও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি ইসমাইল তালুকদার (২৬)। ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করলেও ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে না নিয়ে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তবে একটি কৃত্রিম পা তার চলাফেরা সহজ করে দিতে পারে এই আশায় এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জালাল তালুকদারের ছেলে ইসমাইল একসময় ট্রাকচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় সাত বছর আগে সড়কের পাশে ট্রাক সরানোর সংকেত দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

ট্রাকের চাকা তার ডান পায়ের ওপর উঠে গেলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা কেটে ফেলতে হয়।

চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে তিন বছর আগে তার স্ত্রী বাড়ির টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মনোবল হারাননি ইসমাইল। এক পায়ে ভর দিয়ে ভাড়ায় ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তবে প্রতিদিনই তাকে কঠিন কষ্টের মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত আকন বলেন, ইসমাইলকে দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগে। সে ভিক্ষা না করে নিজের পরিশ্রমে অটো চালিয়ে জীবন চালাচ্ছে। আমরা চাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এসে তাকে একটি কৃত্রিম পা প্রদান করুক।

আরেক বাসিন্দা তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ইসমাইলের জীবনটা খুব কষ্টের। চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করেছেন, স্ত্রীও ছেড়ে চলে গেছেন। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই দেখি সরকার পঙ্গুদের কৃত্রিম পা দেয়, তাই তার ক্ষেত্রেও এমন সহায়তা প্রয়োজন।

ইসমাইল তালুকদার বলেন, দুর্ঘটনার পর কলাপাড়া, পটুয়াখালী ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। এতে আমি ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছি। এখন অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু একটি কৃত্রিম পা কেনার সামর্থ্য নেই। যদি সরকার বা কোনো বিত্তবান ব্যক্তি সাহায্য করতেন, তাহলে আমার জীবন অনেক সহজ হতো।

কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, ইসমাইল বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতাভুক্ত। তার কৃত্রিম পায়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।