প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর নদীর নীরব স্রোতের সঙ্গে মিশে থাকা পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এখন অবহেলায় বিলুপ্তির পথে। সংস্কার ও নিয়মিত তদারকির অভাবে এক সময়কার জনপ্রিয় এই বিনোদন কেন্দ্রটি হারাচ্ছে তার প্রাণচাঞ্চল্য।
ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায় পানগুছি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট একসময় ছিল স্থানীয়দের বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তির অন্যতম স্থান। নদীর শান্ত স্রোত, শীতল বাতাস এবং সারিবদ্ধ বৃক্ষরাজি মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছিল মনোরম পরিবেশ, যা আশপাশের উপজেলা ও জেলা থেকেও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করত।
পার্কটি নির্মাণের পর পরিবার-পরিজন নিয়ে পিকনিক, অবসর সময় কাটানো ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে এখানে ভিড় জমাতেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পার্কটি থাকত মুখর। তবে বর্তমানে সেই দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হলেও পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দের অভাবে এর পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই পার্কটির জৌলুস ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন পর গত বছরের অক্টোবর মাসে সীমিত পরিসরে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। কিছু অংশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আংশিক মেরামত হলেও তা পর্যটকদের পুনরায় আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এই সংস্কার কার্যক্রম কেবল নামমাত্র।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ইন্দুরকানীর একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে। এতে পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে। তারা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, পার্কটিকে আরও চাঞ্চল্যকর করতে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে গাড়ি পার্কিং, ওয়াশরুমসহ অবকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আবারও তার হারানো সৌন্দর্য ও প্রাণ ফিরে পাবে।


