ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জবাই করে যুবক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই

স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির একটি ইটভাটা থেকে গোপাল চন্দ্র দাস নামে এক যুবকের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত রাজু ও সম্রাট নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নেছারাবাদ থানা পুলিশ শনিবার (১৪ মার্চ) বরিশালের এয়ারপোর্ট থানা এলাকা থেকে আসামি তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে (২৯) গ্রেপ্তার করে। পরে একই পুলিশ বরিশাল র‍্যাব-৮-এর সহযোগিতায় একই এলাকা থেকে অপর আসামি আবেদীন মাঝি ওরফে রাজুকে (৪২) গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার রাজু পিরোজপুরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে এবং সম্রাট বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণকপাড়া এলাকার আমির হোসেন মোল্লার ছেলে।

রোববার (১৫ মার্চ) গ্রেপ্তারকৃতদের পিরোজপুর আদালতে প্রেরণ করা হলে সেখানে আসামি সম্রাট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ সময় পুলিশ মামলার অপর আসামি রাজুর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের মেসার্স তাছলিমা ব্রিকস ফিল্ড নামের একটি ইটভাটা সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর তীর থেকে গোপাল চন্দ্র দাসের (৪৫) মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন কাশিপুর গণকপাড়া এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে। গোপাল পেশায় একজন ট্রাক হেলপার।

পুলিশ শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইটভাটা সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে ডুবুরি দিয়ে মরদেহের মাথা উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মানিক চন্দ্র দাস বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে রোববার সকালে পিরোজপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্বশত্রুতার কারণে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়রা স্বরূপকাঠির ওই ইটভাটার পাশে সন্ধ্যা নদীর তীরে মস্তকবিহীন লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজতে ইটভাটার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম চালায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে একটি সাদা রঙের মোটরসাইকেলে তিনজন ব্যক্তি ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় ১৫ মিনিট পর, দুপুর ৩টা ২৫ মিনিটে ওই তিনজনের মধ্যে দুইজন খালি গায়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ে ইটভাটা থেকে বের হয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে এবং ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।