পিরোজপুরের জিয়ানগরে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে পল্লী বিদ্যুতের দুই কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে আদায়কৃত বকেয়া বিলের টাকাও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শনিবার (২৭ জুন) রাতে পিরোজপুর সদর দপ্তরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (আইটি) রিয়াদুস সালেহীন বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রোববার (২৮ জুন) এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে জিয়ানগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইন টেকনিশিয়ান ইনচার্জ খন্দকার দিদার হোসেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, একইদিন দুপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি দল তিন মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় ও নিয়ম অমান্য করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য জিয়ানগর উপজেলার কালাইয়া গ্রামে যায়। ওই গ্রামের বাসিন্দা নাসির মাতুব্বরের বকেয়া বিল বাকি থাকায় তার ঘরের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাসির মাতুব্বর ও তার ভাই জাকির মাতুব্বর ওই টিমের দুই কর্মকর্তাকে মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা বকেয়া বিল আদায়ের প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।
আহতরা হলেন, পিরোজপুর সদর দপ্তরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (আইটি) রিয়াদুস সালেহীন (৩৪) ও জিয়ানগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইন টেকনিশিয়ান ইনচার্জ খন্দকার দিদার হোসেন (৪৬)।
জিয়ানগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইন টেকনিশিয়ান ইনচার্জ খন্দকার দিদার হোসেন বলেন, আমরা জুন ক্লোজিং হিসাবে বকেয়া বিল আদায় করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করিয়েছি। তারপরেও বকেয়া বিল আদায় করতে গেলে আমাদের ওপর হামলা করাটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আলতাফ হোসেন জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি দল বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে গেলে দুজন গ্রাহক আমাদের দুই কর্মকর্তাকে মারধর করেন। আমরা ওই গ্রাহকের মিটার খুলে নিয়ে এসেছি এবং তাদের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
জিয়ানগর (ইন্দুরকানী) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বলেন, পল্লী বিদ্যুতের দুই কর্মকর্তাকে মারধরের খবর পেয়ে আমরা তাদের উদ্ধার করি। এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।


