ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর ঢাকা-খুলনা রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাজবাড়ীর বসন্তপুর রেলক্রসিংয়ে জিপসামবোঝাই একটি ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার ও সেফটি ফেন্সিং ভেঙে ফেলায় প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-খুলনা-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল।

সোমবার (২৯ জুন) উদ্ধারকারী দল ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার পর সকাল ১০টার দিকে রেললাইন চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জানা যায়, সোমবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে রাজবাড়ী-ফরিদপুর সড়কের বসন্তপুর রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় যশোর থেকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরগামী জিপসামবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার ও সেফটি ফেন্সিং ভেঙে রেললাইনের পাশে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এ ঘটনায় রাজবাড়ী স্টেশনে ঢাকাগামী নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস, ভাঙ্গাগামী রাজবাড়ী এক্সপ্রেস-১ এবং ফরিদপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস আটকা পড়ে। ফলে কয়েকশ যাত্রীকে দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়।

খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধারকারী রেকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল থেকেই ট্রাক অপসারণের কাজ শুরু করে। প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে ট্রাকটি সরিয়ে রেললাইন নিরাপদ ঘোষণা করা হয় এবং ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ট্রাকের হেলপার সোহেল জানান, চালক অসুস্থ থাকায় তিনি নিজেই ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে চোখে ঘুম চলে আসায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বসন্তপুর রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান রেজাউল হাওলাদার বলেন, দুর্ঘটনার আগে রাতেই বেনাপোল ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন নিরাপদে ক্রসিং অতিক্রম করে। ভোরের দিকে বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি দেখেন ট্রাকটি ব্যারিয়ার ও সেফটি ফেন্সিং ভেঙে রেললাইনের পাশে পড়ে আছে। পরে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রাজবাড়ী রেলওয়ের সিনিয়র সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ে) মাহবুব হাসান জানান, উদ্ধারকাজ শেষে সকাল ১০টার দিকে রেললাইন ক্লিয়ার করা হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের পরিবর্তে হেলপার ট্রাক চালানো এবং ঘুমের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।