ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দেওয়া হলে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না’

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে প্রতীক দেওয়া হলে রাজশাহীতে কোনো নির্বাচন হবে না, নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’ তবে এ অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদেরও প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম চলছিল। দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপির কার্যক্রম স্থগিত থাকা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাবেক আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু।

অভিযোগে বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন সহযোগী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এসব ব্যক্তি ও দল অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা জরুরি। সংবিধান, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’

এতে জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও দলের মনোনয়নপত্র এবং প্রতীক বরাদ্দ বাতিল করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি যেসব প্রার্থী অতীতে অবৈধ নির্বাচন, ভোট কারচুপি ও দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের প্রার্থিতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়।

প্রতীক বরাদ্দ চলাকালে এনসিপি নেতা নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের দোসর বা সহযোগী কাউকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে না। আর যদি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। হতে দেওয়া হবে না।’ এ সময় তার সঙ্গে থাকা দু-একজনকে ‘ঠিক’ বলতে শোনা যায়।

এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, ‘আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করব। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এখন জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইনের বাইরে গিয়ে আমরা কোনো কাজ করতে পারছি না।’