রাজশাহীর তানোর বিলকুমারী বিলে বোরো চাষের জন্য কৃষকের একমাত্র ভরসা হলো ডিজেল চালিত স্যালোমেশিন। যদিও দু-একজনের ব্যক্তিগতভাবে বানিজ্যিক মটর স্থাপন আছে, সেচের হার বেশি হওয়ায় কৃষকরা তাতে সেচ দিতে পারছেন না। ফলে কৃষকরা একটু বেশি খরচ করলেও কোনো সমস্যা মনে না করে স্যালোমেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন।
উপজেলার বিলকুমারী (শিবনদী) বিলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শিবনদী ব্রিজ থেকে কামারগাঁও, ট্যাংরা, চৌবাড়িয়া ব্রিজ পর্যন্ত বোরো চাষের জন্য ডিজেল চালিত স্যালোমেশিন খালের ধারে সারি সারি করে রাখা রয়েছে।
জানা গেছে, বিলের বোরো জমি চৈত্র মাসে তীব্র খরার কারণে ব্যাপকভাবে ফেটে চৌচির হয়ে পড়ে। এজন্য কয়েকদিন পরপর বোরো জমিতে সেচ দিতে হয়। বিলে সেচ মটর না থাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে ঘণ্টা চুক্তিতে স্যালোমেশিন দিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে বোরো চাষে বিঘা প্রতি খরচ তিনগুণ বেড়ে যায়।
ডিজেল চালিত স্যালোমেশিন দিয়ে ঘণ্টা চুক্তিতে কৃষকের এক বিঘা জমিতে বোরো চাষের খরচ হচ্ছে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মতো, যা সেচ মটরের মাধ্যমে দিলে খরচ পড়ত ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা। ব্যক্তিগত বানিজ্যিক মটরে সেচ দেওয়ার খরচ ৪,০০০ থেকে সাড়ে ৪,০০০ টাকা।
বেশ কিছু কৃষক জানান, বিলে সেচ মটর না থাকায় অতিরিক্ত খরচে ব্যক্তিগত মটরে সেচ দেওয়া তেমন ফলপ্রসূ হয় না। খাড়িতে যেটুকু পানি বেঁধে থাকে, সেই পানি স্যালোমেশিন দিয়ে উত্তোলন করে বোরো জমিতে সেচ দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে বিলের এই অবস্থায় ভবিষ্যতে বোরো চাষ করা কষ্টকর হয়ে যাবে।
কৃষক বাবু সাইফুল আলী জানান, ‘অনেক কৃষক বিলের জমিতে বোরো ধান চাষ করে সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করেন। পাশাপাশি, বিলে মাছ শিকার করে মৎস্যজীবীরা তাদের জীবিকা চালান। দিন দিন যেভাবে বিলের খাড়ি ভরাট হচ্ছে, তাতে খনন না করা হলে বোরো ধান চাষ অসম্ভব হয়ে পড়বে। সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে বিলটি খনন করা হলে একদিকে কৃষক বাঁচবেন, অন্যদিকে খাদ্যের ঘাটতি অনেকটা দূর হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও নাঈমা খান জানান, ‘তানোরের বিলে অনেক জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়। তবে বিলে সেচ মটরের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কৃষকের সুবিধার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন যাতে বিলে বোরো চাষের জন্য সেচের ব্যবস্থা করা যায়।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন