ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দরিদ্রদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার সরনজাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ মোজাম্মেল হক খাঁনের বিরুদ্ধে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভিজিডব্লিউবি (ভি,ডাব্লিউ,বি) প্রকল্পের মাসিক সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাস থেকে সরনজাই ইউনিয়নে ভিজিডব্লিউবি প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপকারভোগীরা মাথাপিছু প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পেয়ে থাকেন। প্রতিজনের ৩০ কেজি চালের বিপরীতে ২৪০ টাকা করে মাসিক সঞ্চয় ব্যাংকে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এজন্য প্রতিটি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো উপকারভোগীর সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য জানান, সরনজাই ইউনিয়নে বর্তমানে ১৭০ জন উপকারভোগী রয়েছেন। গত জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে তাদের সঞ্চয়ের কোনো টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান প্রায়ই জানান, টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।

এক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েকদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো কোনো টাকা ব্যাংকে জমা হয়নি।

দলীয় কয়েকজন নেতাও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খান আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার নানা কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় রাজনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।

সূত্র জানায়, সরনজাই ইউনিয়নে ভিজিডব্লিউবি প্রকল্পের আওতায় ১৭০ জন উপকারভোগী মাসে ৩০ কেজি করে চাল পান। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিজনকে প্রতি মাসে ২৪০ টাকা করে ব্যাংকে সঞ্চয় রাখতে হয়। দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে জনপ্রতি সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০ টাকা। সে হিসেবে ১৭০ জন উপকারভোগীর মোট ৩ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ টাকা সঞ্চয়ের কথা থাকলেও তা ব্যাংকে জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খাঁনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্যানেল চেয়ারম্যান সইবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

ইউপি সচিব মুর্শেদুর রহমান মুরাদ জানান, তিনি দুই মাস আগে এখানে যোগদান করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তবে শুনেছেন চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের ব্যাংকে টাকা জমার কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছেন।

কালীগঞ্জ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রুমান জানান, তাদের শাখায় এ ধরনের কোনো টাকা জমা হয়নি। তবে তানোর শাখায় হতে পারে।

এ বিষয়ে তানোর কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক বলেন, হিসাব নম্বর দিলে নিশ্চিত করে বলা যাবে। তবে সাধারণত সরনজাই ইউনিয়নের এ ধরনের টাকা কালীগঞ্জ শাখায় জমা হওয়ার কথা।

প্রকল্প তদারকি সংস্থা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তা হাবিবা খাতুন বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে এ টাকা রাখার কোনো এখতিয়ার নেই। উপকারভোগীরা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা রাখবেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খাঁন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।