ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রুয়েটে ছাত্র হল-১ এ কাজের ধীরগতি, সময়সীমা পেরিয়েও শেষ হয়নি কাজ

রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ছাত্রহল-১ এর উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়েও শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন এইচ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করা, সমন্বয়হীনতা এবং অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথমে অক্টোবর, পরে ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ এপ্রিলের শুরুতে অধিকাংশ কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কোনো সময়সীমাই রক্ষা করা হয়নি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রুয়েটের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তদারকি অব্যাহত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তবে প্রশাসনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অর্থছাড় ও সহযোগিতা দেওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। বরাদ্দ অর্থ অন্য প্রকল্পে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে, যা কাজের ধীরগতির একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হলটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। অনেক কক্ষে দরজা বসানো হয়নি, সাবস্টেশন পুরোপুরি চালু হয়নি এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও স্থিতিশীল নয়। এ ছাড়া ওয়াইফাই সংযোগ ও লিফট স্থাপনের কাজও শেষ হয়নি, ফলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কাজের তুলনায় শ্রমিক সংখ্যা কম থাকায় অগ্রগতি ধীর। একই ধরনের আশ্বাস বারবার দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ শেষ করতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবস্টেশন ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ হাতে পেলেই বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তারা দাবি করেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, পাশের হল-২ এর কাজ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও হল-১ এ তেমন অগ্রগতি নেই, যা তাদের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত কাজ শেষ করে হলটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে বসবাসযোগ্য করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।