শতবর্ষের ইতিহাস, টেরাকোটার নিপুণ কারুকাজ আর রাজকীয় স্থাপত্যের অনন্য ঐতিহ্য যেন হাতছানি দিয়েছিল। সেই টানেই রাজশাহীর ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ী ও গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে এলেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রুনেই দারুসসালামের রাষ্ট্রদূত হাজি হারিস বিন হাজি ওসমান। শনিবার দুপুরে তার এই সফর শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; বরং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার এক কূটনৈতিক প্রয়াস বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সড়কপথে পুঠিয়া রাজবাড়ী চত্বরে পৌঁছান রাষ্ট্রদূত। আগমনের পর তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান এবং রাজবাড়ী কর্তৃপক্ষ। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার পরই প্রতিনিধি দলটি প্রবেশ করে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাজবাড়ীর প্রাঙ্গণে।
রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখার পাশাপাশি প্রতিনিধি দলটি পরিদর্শন করে রাজবাড়ী-সংলগ্ন প্রাচীন গোবিন্দ মন্দির। টেরাকোটার সূক্ষ্ম অলংকরণ, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের নানা দিক গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন রাষ্ট্রদূত। সফরকালে তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পুঠিয়ার ইতিহাস, জমিদারি আমলের স্থাপত্য এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য নেন।
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ব্রুনেই দূতাবাসের প্রথম সচিব মাজি রোজাইমি বিন দাতো পদুকা হাজি আবদুল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাবেক সম্পাদক আবদুল রহমান।
প্রায় এক যুগল মুহূর্তের এই সফর শেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে প্রতিনিধি দলটি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে পুঠিয়া ত্যাগ করে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সফরকে ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। পুরো সফর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন পুঠিয়া রাজবাড়ী ও এর মন্দিরসমূহ দীর্ঘদিন ধরেই দেশি-বিদেশি পর্যটক, গবেষক ও কূটনীতিকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি কূটনীতিকদের এমন সফর কেবল সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বাংলাদেশের প্রত্নঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই অর্থে ব্রুনেইর রাষ্ট্রদূতের এই সফর পুঠিয়ার ঐতিহাসিক পরিচিতিকে নতুন মাত্রা দিল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

