ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

মমতার তৃণমূল কার্যালয় দখলে নিলেন দলের বিদ্রোহীরা

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক বিধায়ক দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক শেষে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে চলে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কালীঘাটপন্থী নেতা কুণাল ঘোষ এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব দেন বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও কয়েকজন বিধায়ক।

বিদ্রোহী শিবিরের নেতা আখরুজ্জামান দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টির সঙ্গে দলের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাই কার্যালয়টির দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তিনি জানান, ভবনের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যালয় পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিন দলীয় কার্যালয়ের সামনে নতুন পোস্টারও টানানো হয়। পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল না। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পরামর্শদাতা। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে। বিদ্রোহী শিবিরের এ পদক্ষেপকে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন।

কুণাল ঘোষ পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তিনি প্রগতি ময়দান থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দলীয় কার্যালয় ঘিরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে। বৈঠক শেষে ঋতব্রত বলেন, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, কাউন্সিলর ও জেলা পরিষদের সদস্য তাদের সঙ্গে রয়েছেন। তাই দলীয় প্রতীক বা দলের নাম নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে দলীয় কার্যালয়কে ঘিরে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দলীয় কার্যালয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হওয়ার পর নিজের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এতে মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে সব সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, আমার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতদিন দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আর দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।