রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এক নারীর বৈধ ডিশ সংযোগ ও ব্যবসায়িক লাইন জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও ডিশ ব্যবসায়ী মোসা. ফাইমা খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে ফাইমা খাতুন বলেন, ২০১০ সাল থেকে তার স্বামী শাহ মো. শরিফুল ইসলাম রাজু বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, পলাশী, চন্দ্রপুর, উদপাড়া, ডাংগাপাড়া ও রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈধ লাইসেন্স ও নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে ডিশ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় হামলা ও দখলের ঘটনায় তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনার মানসিক আঘাতে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি নিজেই ব্যবসার দায়িত্ব নেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম জোরপূর্বক তাদের ডিশ লাইন ও ব্যবসা দখল করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি থানা, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফাইমা খাতুন বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপির নেতাদের উদ্যোগে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হলে আসাদুল ইসলাম তাকে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠান। নিরাপত্তার কারণে তিনি নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান।
তার অভিযোগ, আলোচনার একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে তাকে হুমকি, গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে ভাঙচুর ও লুটপাটের মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছাত্রদল নেতারাও দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ভিত্তিহীন। একজন নারী ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তাদের জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফাইমা খাতুন প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, তার বৈধ ডিশ ব্যবসা ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন