রাজশাহীর পুঠিয়ায় হাটবাজার ও দোকানগুলোতে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের বিক্রি দিন দিন বেড়ে চলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের অনিয়ম, গাফিলতি এবং মাশোহারা আদায়ের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক বাজার মনিটরিংয়ের পরিবর্তে মাশোহারা তুলতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। অন্যদিকে, পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ‘বাধার কারণে’ পৌর এলাকার হাটবাজার মনিটরিং করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আরেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।
তথ্য অনুযায়ী, পুঠিয়া উপজেলা ও পৌরসভা মিলিয়ে ছোট-বড় ১৫টি হাটবাজার, ১০টি কসাইখানা, ৮টি বেকারি, প্রায় ৫০০ খাদ্যদোকান এবং দেড় হাজারের মতো মুদিদোকান রয়েছে। কিন্তু তদারকির অভাবে এসব স্থানে বাসি-পচা ও ভেজাল খাবার অবাধে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, বাজারের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। অনেক হোটেলে বাসি-পচা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। কসাইখানাগুলোতে গভীর রাতে রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে সকালে ভালো মাংস বলে বিক্রি করা হয়। মাছ ও মাংসের বাজারে দুর্গন্ধের কারণে প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত ২৭ আগস্ট বানেশ্বর হাটে রোগাক্রান্ত গরু জবাইয়ের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করে। এ ছাড়া মুদিদোকানগুলোতে ভেজাল তেলসহ বিভিন্ন নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বিক্রির একাধিক অভিযোগও রয়েছে।
কসাইরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন গরু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ না নিতেই তারা প্রতিটি গরুর জন্য পৌরসভা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ৭০০ টাকা এবং ছাগলের জন্য ২০০ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হন। অনেকে বলেন, ‘গরু-ছাগল জবাই হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য পরিদর্শকের প্রতিনিধি এসে টাকা কিংবা মাংস নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক মামুন-অর রশিদ বলেন, ‘পৌরসভার ভেতরের হাটবাজারগুলো আসলে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক হাফিজুর রহমান দেখভাল করেন।’
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক হাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘আমি মাঝেমধ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করি। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই এবং মাশোহারা গ্রহণ করি না।’
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন