ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাঙামাটিতে শেষ মুহূর্তে পাহাড়ে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার

রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রাঙামাটি-২৯৯ নং আসনে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনি প্রচারণা তুঙ্গে পৌঁছেছে। বৈচিত্র্যময় ও পাহাড়ি বাঙালি জাতির সম্মিলিত এ জেলার এ আসনে পাহাড়ি ও বাঙালিসহ মোট ১৩টি জাতি গোষ্ঠীর ভোটার বসবাস করছে। সব জাতিগোষ্ঠীর ভোটাররা অধীর আগ্রহে ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন। নতুন ও পুরাতন ভোটাররা দীর্ঘ ১৬ বছর পর ভোটের আনন্দ উপভোগ করতে চলেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পাহাড়ে প্রার্থীদের প্রচারমুখর রাঙামাটির ১০ উপজেলা। নির্বাচনে জিততে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ২৯৯ নং আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তাদের প্রতীক ও নাম নিম্নরূপ:

ধানের শীষ: অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, রিকশা: মাওলানা মো. আবু বকর সিদ্দিক, ফুটবল (স্বতন্ত্র): পহেল চাকমা, হাত পাখা: জসিম উদ্দিন (ইসলামী আন্দোলন), লাঙ্গল: জাতীয় পার্টি প্রার্থী (নাম পাওয়া যায়নি), কোদাল: জুই চাকমা (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি), ট্রাক: আবুল বাশার (গণঅধিকার পরিষদ)। প্রচারে এগিয়ে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ১১ দলী জোটের মনোনীত ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মো. আবু বকর সিদ্দিক।

২৯৯ নং রাঙামাটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২১৩টি। বিদ্যুৎবিহীন কেন্দ্র ৬৪টি, মোবাইল নেটওয়ার্কবিহীন কেন্দ্র ৩৬টি, হেলিশর্ট ২০টি। পোস্টাল ব্যালটের জন্য ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬০। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য শহরের স্টেডিয়ামের সংলগ্ন কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়ামে একটি কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ভোটাররা বলেন, ‘আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে রাঙামাটির জন্য যোগ্য, সৎ ও শিক্ষিত প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই। সেই প্রার্থীকে ভোট দেব যিনি সম্প্রদায়ভেদ না করে সব জাতি ও জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন করবেন।’

তারা আরও যোগ করেছেন, ‘আগের নির্বাচনে রাতে ভোট দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে, আশা করি এবার তা ঘটবে না। আমরা চাই নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজেই দিতে পারি।’

জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪২০ জন পুলিশ নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। বিদ্যুৎ না থাকা কেন্দ্রে জেনারেটার চালু থাকবে, পুলিশের ওয়ারলেসের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় থাকবে। আমরা সবাই মিলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।’

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার যোগে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হবে। পোস্টাল ব্যালটের ভোটারদের জন্য আদালায় একটি কেন্দ্র খোলা রয়েছে। জেলায় ২ জন হিজড়া ভোটারও কেন্দ্রে এসে ভোট দেবেন। প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্যালট পেপার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় ব্যালট পেপার পাঠানো হবে।’

জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিশাত শারমিন বলেন, ‘২১৩ কেন্দ্রে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনি সরঞ্জামাদি পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ১-২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন।’

সারা দেশের মতো পার্বত্য এই আসনেও শেষ মুহূর্তের নির্বাচনি প্রচারণা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোও শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত। তবে যে প্রার্থীই নির্বাচিত হোক, ভোটাররা আশা করছেন তারা নির্বাচিত হলে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন।