চলমান ভারী বর্ষণে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও পৃথক ঘটনায় দুই শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন।
গত বুধবার কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী সরকারি কলেজ এলাকায় পাহাড় ধসে ফরহাদ ইসলাম ছোটন (৫) ও আরিয়ান ইসলাম জোহান (১০) নামে দুই শিশু আহত হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলার বড়ইছড়ি থানা-সংলগ্ন এলাকায় পাহাড় ধসে গাছ পড়ে জশি মারমা (৭৫) ও উসিং মং মারমা (২৫) আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে পাহাড় ধসের কারণে কাপ্তাই-রাইখালী-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে যান চলাচল প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও কাপ্তাইয়ের পাঁচটি ইউনিয়নের শত শত পরিবার এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছে। উপজেলার ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অনেক বাসিন্দার মধ্যে সেখানে আশ্রয় নিতে অনীহা দেখা গেছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন, তাদের অনেকেই আবার নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতে চাইছেন।
রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিনে কাপ্তাইয়ের ঢাকাইয়া কলোনীতে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম, সুরাইয়া খাতুনসহ কয়েকজনের সঙ্গে। তারা বলেন, ঘরবাড়ি ফেলে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান না। ঘর খালি রেখে গেলে চুরির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বারবার দাবি জানানো হলেও তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। সরকার স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করলে এ দুর্ভোগ পোহাতে হতো না বলেও তারা জানান।
কাপ্তাইয়ের আফসারের টিলা এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম ও ছানাউল্লাহ বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাবেন। তবে বাড়িঘর ফেলে যেতে না চাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আপাতত নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন মিলন জানান, তিনি পাহাড় ধসে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কর্ণফুলী সরকারি কলেজ আশ্রয়কেন্দ্র, সংলগ্ন স্টেডিয়ামের দুটি কক্ষ এবং কাপ্তাই উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১৯৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিত পরিবারগুলোর জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সরাসরি তাদের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য অনুরোধ করছেন। বাসিন্দাদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়েও দ্রুত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। তিনি আরও জানান, কাপ্তাইয়ের ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

