ভোট শুরুর আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোটাররা। লাইনে পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভোটারের সংখ্যা। বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রংপুর বিভাগের ৩৩টি নির্বাচনি আসনে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটকেন্দ্রে আসতে পারায় খুশি ভোটাররা। এ বিভাগের ৩৩টি আসনে ৪ হাজার ৫৪৫টি ভোট কেন্দ্রে এক কোটি ৪৫ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি লক্ষণীয়। সকাল থেকেই ভিড় রয়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে প্রার্থীদের বুথ করা হয়েছে। সেই বুথ থেকে ভোটারদের স্লিপ সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রিকশা ও অটোরিকশা করে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি থেকে নিয়ে আসছেন প্রার্থীদের কর্মীরা।
ভোটার আঞ্জুমান বলেন, সকালেই ভোট দিয়েছি। এখন সারাদিন বাড়ির কাজ করা যাবে নিশ্চিন্তে। একই কথা জানান রহিমা বেগম। তিনিও শুরুতেই সকালেই ভোট দিয়েছেন।
আজিজুল ইসলাম জানান, পরিবারসহ সকালেই কেন্দ্রে এসেছি যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারি। সেই অনুযায়ী ভোটও দিয়েছি। কোনো ভয় নেই। উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট হচ্ছে।
ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ২৫৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১ হাজার ২৭১ জন। কেন্দ্রে সকালে ভোটারদের উপস্থিতি ভালো ছিল। বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা নেই। ভোটের পরিবেশ ভালো।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছে ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ৮৭৩ জন প্রিসাইডিং, ৫ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং এবং ১০ হাজার পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য রংপুর জেলার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনসহ কেন্দ্রের বাইরে সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ভোটকেন্দ্রগুলোতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।


