ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল স্কুলছাত্রী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১০:০২ পিএম
বাল্যবিয়ে বন্ধ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে আখড়াখোলা মুকুন্দপুর আলিম মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগ (ইউপি) যৌথভাবে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ আফরোজা আক্তার গোপন সূত্রে বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব দত্তকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার তার প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরাকে সমন্বয়ক করে একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠান।

দুপুরে মেয়ের বাবার বাড়িতে বরপক্ষ আসার আগেই টিমের সদস্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষাকর্মী বাসিয়ার রহমান, ওই শিক্ষার্থীর মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ, গ্রামপুলিশ মনিরুজ্জামান ও তথ্য উদ্যোক্তা আলমগীর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং বাল্যবিবাহটি প্রতিরোধ করে আইনগত নির্ধারিত বয়স পর্যন্ত তা স্থগিত করেন।

টিম সদস্যরা জানান, জেলার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের কাজিরহাট ছোট কলসি গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিবারের বাল্যবিবাহ নির্ধারণ করা হয় এবং আনুষ্ঠানিক আয়োজনও করা হয়েছিল। এতে স্থানীয় ও আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং অনেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবাইকে দেশের প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করা হলে তারা ভুল স্বীকার করেন। এ ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে ওই ছাত্রীর মা ফাতেমা খাতুন মুচলেকা দেন।

একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাল্যবিবাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার এবং তার পড়ালেখা অব্যাহত রাখার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।