দাবিমতো ঘুষের টাকা না দিয়ে প্রতিবাদ করায় এক কৃষকদল নেতাকে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা এলজিইডি অফিসে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন তালা উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক। তিনি পাশাপাশি ঠিকাদারি পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই সালাউদ্দীন লিটন নামে একজন ফেসবুকে লাইভ করলে তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম জানান, গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি একটি টেন্ডারের জামানত ছাড় করতে অফিসে যান। ওই সময় অফিসের এসও আলামিন হোসেন তার কাছে দেড় হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। উপায় না পেয়ে এক হাজার টাকা দিয়ে দফারফা করেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুনরায় তিনি তার ফাইল ছাড়াতে গেলে আলামিন ফের ৫০০ টাকা দাবি করেন। একই সঙ্গে পিয়ন দুঃখু তার কাছে ১০০ টাকা দাবি করেন।
দাবিমতো টাকা না দিয়ে তিনি অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী তাকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তালাবদ্ধ করে আটক রাখেন। পরে স্থানীয় ঠিকাদারদের সহযোগিতায় মুক্ত হন তিনি।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী জানান, ‘গতকাল বুধবার ঠিকাদার জাহাঙ্গীরের একটি জামানত ম্যাচিউর হয়। আজ দুপুরে তিনি অফিসে এসে এসও আলামিনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর এসও আলামিনকে মারতে উদ্যত হন। আমি ঘটনাটি শুনে তাকে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলি। কিন্তু তিনি বের না হয়ে পুনরায় বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। ওই সময় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জাহাঙ্গীরকে সুরক্ষার জন্য একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখি। এরপর জেলা ঠিকাদার কল্যাণ কমিটির লোকজনকে খবর দিই। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় দু’পক্ষের মীমাংসা শেষে জাহাঙ্গীরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, ‘ঘটনাটি শুনে দু’পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেউ ঘুষ নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন