ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

জীবিকার সন্ধানে কাতারে গিয়ে ঘুমের ঘোরে যুবকের মৃত্যু, পরিবারে মাতম

সাতক্ষীরা  প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জীবিকার তাগিদে সুদূর কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সি যুবক আবু বক্কর শেখ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেখানে ঘুমের মধ্যেই চিরতরে চোখ বুজেছেন তিনি।

আবু বক্কর শেখ তালা সদর ইউনিয়নের ডাঙ্গানলতা গ্রামের আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে। প্রায় ১ বছর ১ মাস আগে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেশে রেখে কাতারে গিয়েছিলেন তিনি। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও গোটা এলাকায় চরম শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টার দিকে কাতারে নিজ কর্মস্থলের আবাসনে ঘুমন্ত অবস্থায় হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে আবু বক্করের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মরহুমের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন জানান, ওই রাতে তার স্বামী কাতার থেকে মোবাইলে ফোন করেছিলেন। তবে সে সময় সুমাইয়া ঘুমিয়ে থাকায় ফোনটি ধরতে পারেননি। রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে ঘুম ভেঙে গেলে তিনি স্বামীকে কলব্যাক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সে সময় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে বিদ্যুৎ এলে সুমাইয়া একাধিকবার ফোন করলেও অপর প্রান্ত থেকে আর কেউ সাড়া দেয়নি।

পরদিন শনিবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে কাতারে আবু বক্করের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা সহকর্মীরা তাকে দীর্ঘ সময় ঘুম থেকে না উঠতে দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, আবু বক্কর ঘুমের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।

তিনি আরও জানান, কাতার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মরদেহ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ঠিক কবে নাগাদ মরদেহ দেশে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য  বলতে পারেনি। পরিবার দ্রুত মরদেহটি দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।  

এদিকে আবু বক্করের অকাল মৃত্যুতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং তার পাঁচ বছর বয়সি একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ ওমর ফারুক শেখসহ শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। প্রিয়জনের মরদেহটি শেষবারের মতো দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে দিন গুনছে পুরো পরিবারসহ এলাকাবাসী।