মানিকগঞ্জের ঘিওরে পিস ফলের প্রলোভন দেখিয়ে ৪ বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল গনি (৬০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুল গনি ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের উত্তর তরা এলাকার মৃত গেতা মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন উত্তর তরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, ওইদিন তিনি উত্তর তরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া তার বড় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। সাথে তার ৪ বছরের ছোট মেয়েটিও ছিল। তিনি ছোট মেয়েকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় রেখে বড় মেয়ের সাথে কথা বলতে শ্রেণিকক্ষে যান।
শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে তিনি ছোট মেয়েকে আর যথাস্থানে দেখতে পাননি। চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বড় মেয়ে দেখতে পায়, অভিযুক্ত আব্দুল গনি মিয়ার কোলে বসে আছে তার ছোট বোন এবং তার হাতে একটি পিস ফল রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে পরদিন ২৭ জুন শিশুটিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, শিশুটি নির্মম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সমাজের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। তবে ঘটনার নির্মমতা ও স্পর্শকাতরতা অনুধাবন করে এলাকার সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ জানান। ফলে অপরাধীর পক্ষ নেওয়া চক্রটির অপচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, তিনি ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে শুনেছেন। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

