ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০১:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রাম মহানগরের জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। নগরীর নিচু এলাকার রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। মহানগরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল এবং কমে গেছে গণপরিবহনের সংখ্যা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গন্তব্যে যেতে বাধ্য হওয়া চাকরিজীবী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে মহানগরের বহদ্দারহাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

অফিসগামী অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। পানিতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের মাঝপথে আটকে পড়ে, ফলে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। এদিকে গণপরিবহন স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকায় বিভিন্ন বাসস্টপে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।

একই চিত্র নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাদামতলী, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরা ও পতেঙ্গা এলাকায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক ও নালা একাকার হয়ে যাওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কিছু এলাকায় ছোট যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও বাসাবন্দি হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। সড়ক ও ড্রেনের সীমারেখা মুছে যাওয়ায় চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, ষোলশহর ও মুরাদপুর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি।

জলাবদ্ধতার কারণে মহানগরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। গণপরিবহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকায় অফিসগামী মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও ছিল তুলনামূলক কম, যার প্রভাব পড়েছে পুরো নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আমবাগান এলাকায় ২৫৯ মিলিমিটার এবং পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি রয়েছে। বেলা পৌনে ১২টার দিকে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ার কথা থাকায় নিচু এলাকায় পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে এবং কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ঘেঁষা এলাকার বাসিন্দাদের ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর একাধিক এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক। দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

এদিকে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মঙ্গলবার সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জরুরি সেবার কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দেন।