জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থেকেও চরম অনীহা, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
গেল বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে শেরপুর জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ জেলায় টানা চার বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলার তুলনায় আয়তন ও প্রশাসনিকভাবে ছোট জেলা শেরপুরে (৫ উপজেলা) পদায়নের পর থেকেই দায়িত্ব পালনে তার চরম অনীহা ও অবহেলা দৃশ্যমান বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিতি এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। একসঙ্গে জামালপুর ও শেরপুর জেলার দায়িত্বে থাকলেও তিনি শেরপুরে আসেন মাত্র সপ্তাহে এক দিন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর বদলিজনিত কারণে জামালপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ শূন্য হলে মোহাম্মদ জামাল হোসেন প্রধান প্রকৌশলীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে জামালপুর জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দুই জেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে মাত্র এক দিন অফিস করেন। ওইদিন সকালে ময়মনসিংহ থেকে এসে অর্ধবেলা শেরপুর এবং অর্ধবেলা জামালপুরে অবস্থান করেন। বাকি চার দিন দুই জেলার কোনো অফিসেই তাকে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
লোকমুখে শোনা গেছে, এ সময় তিনি বদলির তদবিরে ব্যস্ত থাকেন। দাপ্তরিক প্রয়োজনে কেউ ফোন করলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহ বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটির মাধ্যমে। তবে শেরপুর ও জামালপুর জেলা পরিষদ এবং পৌরসভার এসব কমিটির সদস্য হয়েও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেন একটিতেও উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফলে উন্নয়ন কাজের অনুমোদন, বিল ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে দুই জেলার ঠিকাদাররা চরম বেকায়দায় পড়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আমি নিয়মিতই দুই জেলায় অফিস করেছি। আজও (ফোনে কথা বলার সময় ২১ জানুয়ারি) আমি ইসলামপুরে অবস্থান করছি।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন