শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর মারা গেছেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। ত্রয়োদশ নির্বাচনি সহিংসতায় এটাই প্রথম মৃত্যু। এ ঘটনার পর থেকে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন।
এমনকি জামায়াত নেতার হত্যার ঘটনায় একে একে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের একপর্যায়ে দৌড়াতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান রেজাউল করিম। এ সময় কয়েকজন তাকে বেধকড় পেটান। মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন।
পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আহত রেজাউল করিমকে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
রেজাউল করিমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে। সকাল থেকে বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। উভয়পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রেজাউল করিমের মৃত্যুর তথ্য জানান। পোস্টে তিনি লিখেন, বর্বরোচিত হামলায় আমাদের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আমাদের ৫০ জনেরও বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

