শেরপুরের নকলা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার দরিদ্র ও সল্প আয়ের পরিবারের মধ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি চলছে। তবে অজ্ঞাত কারণে উরফা ইউনিয়নের সুবিধাভোগী তথা দরিদ্র ও সল্প আয়ের কার্ডধারীরা ন্যায্যমূল্যের টিসিবির পণ্য পাচ্ছেন না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য ক্রয়ের স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী ৯৪২টি পরিবারের মধ্যে দিনব্যাপি টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়।
এ সময় ডিলার মো. শহিদ মিয়া, তদারককারী কর্মকর্তা ও উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা নাজমুন নাহার এবং বানেশ্বরদী ইউনিয়নের বিট পুলিশিং অফিসার এসআই মো. জুয়েল রানাসহ, ইউপি সদস্য, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ও সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
টিসিবি ডিলার মো. শহিদ মিয়া জানান, বরাদ্দকৃত টিসিবি পণ্যের প্রতিটি প্যাকেটে ৫ কেজি চাল, যার মূল্য ১৫০ টাকা; ২ লিটার সয়াবিন তেল, যার মূল্য ২০০ টাকা; ২ কেজি মসুর ডাল, যার মূল্য ১২০ টাকা ও ১ কেজি চিনির বিক্রয় মূল্য ৭০ টাকা। এ হিসেবে সুবিধাভোগী প্রতি পরিবারকে ৫৪০ টাকার বিনিময়ে টিসিবি পণ্যের একটি করে প্যাকেজ ক্রয় করতে হয়েছে। ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে পেরে খুশি দরিদ্র ও সল্প আয়ের পরিবারের লোকজন।
২৫ মার্চে নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা) হতে প্রেরিত পণ্য চাহিদার তালিকা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোট ৯ হাজার ৭৩৪টি পরিবারকে ন্যায্যমূল্যে টিসিবি পণ্য ক্রয়ের সুবিধাভোগীর আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভার ২ হাজার ৯১৮টি পরিবার, ১ নম্বর গণপদ্দী ইউনিয়নের ১০৫০টি, ২ নম্বর নকলা ইউনিয়নের ৭৩০টি, ৪ নম্বর গৌড়দ্বার ইউনিয়নের ৬০৫টি, ৫ নম্বর বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের ৯৪২টি, ৬ নম্বর পাঠাকাটা ইউনিয়নের ৬৮১টি, ৭ নম্বর টালকী ইউনিয়নের ৯২৫টি, ৮ নম্বর চরঅষ্টধর ইউনিয়নের ১০০৬টি ও ৯ নম্বর চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের ৮৮২টি পরিবার রয়েছে।
এদিকে তালিকা মোতাবেক উপজেলার ৩ নম্বর উরফা ইউনিয়নের জন্য অজ্ঞাত কারণে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তথ্য রয়েছে, উরফা ইউনিয়নের দরিদ্র ও সল্প আয়ের ৮৫০টি পরিবার ন্যায্যমূল্যের পণ্য ক্রয়ের স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী রয়েছে।
এ বিষয়ে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘আমার নিয়মিত টিসিবির পণ্য কিনে আসছি। কিন্তু এইবার সারা উপজেলার কার্ডধারীরা টিসিবির পণ্য কিনতে পারলেও, উরফার কেউ কিনতে পারেনি। আমরা কেন টিসিবির পণ্য পাইলাম না; তা জানি না।’ তা ছাড়া ২৯ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ (৩ দিনের মধ্যে) সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে টিসিবির পণ্য বিক্রি করার কথা থাকলেও, বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো বিতরণ কাজ শেষ হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন