ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

দুই বছর পেরোলেও মেলেনি বিচার, অঝোরে কাঁদেন শহীদ মাহবুবের মা

শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল ছিল শেরপুরের খরমপুর এলাকা। সেদিন জেলা প্রশাসনের তৎকালীন এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বহনকারী দ্রুতগতির গাড়ির চাপায় নিহত হন শিক্ষার্থী মাহবুব আলম। ঘটনাস্থলেই নিভে যায় একটি তাজা প্রাণ।

নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বিচার পাননি মাহবুবের পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, আইনি জটিলতা ও দায়সারা চার্জশিটের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে।

হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পরও শেরপুরের পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চৈতনখিলা গ্রামে শহীদ মাহবুবের বাড়িতে থামেনি শোকের মাতম। ঘরের এক কোণে মাহবুবের পড়ার টেবিল ও বইপত্র ধুলোয় ঢাকা পড়ে আছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা মোছা. মাফুজা খাতুন এখনো ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে অঝোরে কেঁদে চলেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাফুজা খাতুন বলেন, সেদিন আমার ছেলে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় একটি আইটি সেন্টারে ক্লাস নিতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে আন্দোলনে যোগ দিয়ে মিছিলে অংশ নেয়। মিছিল চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই আমার ছেলে মারা যায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি ট্রলিতে পড়ে আছে আমার সন্তানের নিথর দেহ। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীন চার্জশিট ও নানা আইনি জটিলতার কারণে অপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া ঝুলে আছে। স্বজনদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, মাহবুব আলম হত্যা মামলায় মোট ১৫০ জন এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধিকতর তদন্ত করছে।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে মাহবুবের পরিবার। তাদের একটাই দাবি—শহীদ মাহবুব হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।