সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ শিল্প এলাকায় পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র এবং বাইরে থেকে কেনা পিস্তল প্রদর্শনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শিল্প এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শ্রমিক, প্রবাসী কর্মী ও স্থায়ী বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। গত কয়েকদিন ধরে ‘জুবায়ের’ নামের একটি ফেসবুক আইডিসহ একাধিক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় কয়েকজন যুবক প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নেড়ে ধূমপান করছেন এবং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ভঙ্গিতে ভিডিও ধারণ করছেন।
ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘দৃষ্টিকটু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভিডিও ফুটেজে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকের ভাতিজা পারভেজ, আরিয়ান ও জুবায়েরকে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া আলহাজ্ব শানিল, দুলাল মাসুদ, ১০নং সয়দাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামি বেলালের মেয়ের জামাইসহ কয়েকটি সিন্ডিকেট রফিকের সহায়তায় এলাকায় সক্রিয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বিষয়গুলো প্রকাশ হওয়ার পর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যেখানে অস্ত্রগুলোকে ‘খেলনা পিস্তল’ দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে সয়দাবাদ শিল্পপার্কে চাঁদাবাজি, টেন্ডার সিন্ডিকেট, সরকারি সম্পত্তি দখল এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর সুরক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর যমুনা নদীর তীরবর্তী একটি সোলার প্লান্ট থেকে প্রায় এক কোটি টাকার তামা ও সরঞ্জাম লুটের অভিযোগও উঠেছিল।
নিরাপত্তাকর্মী মেহেদী হাসান অয়ন অভিযোগ করেন, রফিক সরকারের দুই ভাতিজা পারভেজ হোসেন পার্থ ও পলাশসহ আটজন এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন। বাধা দিলে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র ও হকিস্টিক দিয়ে হামলা চালানো হয়।
এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, জোর করে কার্যাদেশ দখল এবং কৃষিজমি ক্ষতির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


