× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

চলনবিলজুড়ে প্রকৃতির মোহনায় অবৈধ শিকারের আশঙ্কা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

অতিথি পাখির আগমন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

অতিথি পাখির আগমন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রতিবছরই রূপে-রসে সেজে ওঠে বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি চলনবিল। কুয়াশায় মোড়া ভোর, দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি এবং সবুজের সমারোহের মাঝে তখন শুরু হয় প্রকৃতির এক অনন্য আয়োজন পরিযায়ী পাখির আগমন।

সুদূর সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, হিমালয়ের পাদদেশ ও ইউরোপের শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসব পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে এসে ভিড় করে চলনবিলে। তাদের কলকাকলীতে মুখর হয়ে ওঠে বিলের আকাশ-বাতাস, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অপূর্ব মুগ্ধতার সৃষ্টি করে।

ভোরের আলো ফোটার আগেই চলনবিলের কুড়ালিয়া, ডিকশি, হালতি বিলসহ নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিস্তীর্ণ জলাভূমিগুলোতে শুরু হয় পাখিদের বিচরণ। বালিহাঁস, সরালি, ল্যাঞ্জাহাঁস, খুন্তে হাঁস, পান্তামুখী, গ্রেলেগ গুজ (রাজহাঁস) ও রাঙামুড়ি জাতীয় নানা প্রজাতির পাখি খাদ্যের সন্ধানে জলকেলিতে মেতে ওঠে।

ডানা ঝাপটানো এবং কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে বিলপাড়ের মানুষের। সূর্যোদয়ের রক্তিম আভা যখন বিলের জলে প্রতিফলিত হয়, তখন হাজারো পাখির একসঙ্গে উড়াল সত্যিই এক মোহনীয় দৃশ্যের অবতারণা করে।

সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুনর অর রশিদ খান হাসান বলেন, চলনবিল শীতকালীন অতিথি পাখিদের জন্য একটি আদর্শ আশ্রয়স্থল। শীতকালে বিলের পানি কমে যাওয়ায় এখানে ছোট মাছ, শামুক ও জলজ কীটপতঙ্গ সহজলভ্য হয়, যা পাখিদের প্রধান খাদ্য। এই প্রাকৃতিক প্রাচুর্যই প্রতিবছর তাদের এখানে টেনে আনে।

তিনি আরও বলেন, এই পাখিরা শুধু চলনবিলের সৌন্দর্যই বাড়ায় না; বরং জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই অপরূপ সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার বাস্তবতা।

অভিযোগ রয়েছে, একদল অসাধু শিকারি রাতের আঁধারে বিষটোপ ব্যবহার করে বা অবৈধ ফাঁদ পেতে নির্বিচারে পরিযায়ী পাখি শিকার করছে। অনেক ক্ষেত্রে সকালে বিলপাড়ে বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়া পাখির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘিত হওয়ার পাশাপাশি চলনবিলের জীব বৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে চলনবিল থেকে হারিয়ে যেতে পারে এসব অতিথি পাখি। তারা দ্রুত অবৈধ শিকার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রকৃতির এই অনন্য উপহারকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। নইলে মুগ্ধতার এই উৎসব একদিন কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা ঘুরপাক খাচ্ছে চলনবিলজুড়ে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!