ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এক কর্মকর্তার কাঁধে ২৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় ২৭৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন একমাত্র সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম। জনবল সংকটের কারণে ২৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় মোট ১১টি ক্লাস্টার এবং ৫৫টি সাব-ক্লাস্টার রয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টারে একজন করে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শন, শ্রেণিপাঠ কার্যক্রম ত্বরান্বিতকরণ এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

কিন্তু ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দুই দফায় এই উপজেলায় কর্মরত ১১ জন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে ১০ জনকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়। ফলে প্রায় চার মাস ধরে মাত্র একজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সামলাতে হচ্ছে ১১টি ক্লাস্টারের আওতাধীন সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ।

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম জানান, এ উপজেলাটি অনেক বড়। এখানে কিছু এলাকা রয়েছে একেবারে দুর্গম। এ অবস্থায় প্রায় চার মাস ধরে তাকে একাই উপজেলার ১১টি ক্লাস্টারের আওতায় থাকা ২৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

ফলে এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। এতে সুষ্ঠুভাবে সব কাজ একার পক্ষে করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত তাকে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্য পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের অনুরোধ জানান।

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরুতে দুই দফায় ১০ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে তাদের স্থলে নতুন কোনো সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। ফলে এখানকার ২৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তদারকি এবং স্কুলগুলোর সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে মাত্র একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলার ১১টি ক্লাস্টারের কাজ পরিচালনা করছেন। এতে দিন-রাত পরিশ্রম করেও সব কার্যক্রম এককভাবে সম্পন্ন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

তবে আপাতত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা গ্রহণ এবং ক্লাস্টারভিত্তিক শিক্ষকদের এ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য সাময়িকভাবে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।

তিনি আরও বলেন, উল্লাপাড়ায় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন জানান, আপাতত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা গ্রহণ এবং এ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন উপজেলা থেকে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউআরসি প্রশিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়ে উল্লাপাড়ায় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে খুব শিগগিরই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।