ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যমুনার চরে মরিচের বাম্পার ফলন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুর্গম যমুনা নদীর চরে এ বছর ‘লাল সোনা’ খ্যাত শুকনা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে চরাঞ্চলের মরিচ চাষিদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে।

জানা যায়, কাজিপুর উপজেলা একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন যমুনা নদীর চরে অবস্থিত।

কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কমবেশি শুকনা মরিচের চাষ হয়ে থাকে। তবে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে মরিচ চাষ বেশি হয়। প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে এসব এলাকার মানুষ টিকে থাকে। যমুনার ভাঙনে নিঃস্ব মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকটাই চরের উৎপাদিত ফসলের ওপর নির্ভরশীল।

এক সময় ধু ধু বালুচরে তেমন কোনো ফসল উৎপাদন হতো না। ফলে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। প্রযুক্তির উন্নয়নে এখন সেই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চরের পলিমাটি এখন কৃষকদের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। চরবাসী এই পলিমাটিতে নানা ফসল উৎপাদন করে কৃষিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। ফলে তাদের জীবনমানও উন্নত হয়েছে।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বছর উপজেলায় ৪৪০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে যমুনা নদীর চরের ৬টি ইউনিয়নেই প্রায় ৭০ শতাংশ আবাদ হয়েছে। নতুন পলিমাটিতে মরিচের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা এ চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ফলে ‘লাল সোনা’ খ্যাত শুকনা মরিচ চাষ করে তারা লাভবান হচ্ছেন। এ বছর বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

তিনি আরও জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই কৃষকরা মরিচ চাষ শুরু করেন। ফলন বাড়াতে নিয়মিত কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বছর চরাঞ্চলে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বেড গোল্ড, বিজলী প্লাস ও বালিজুরি জাতের মরিচ চাষ হচ্ছে।

নাটুয়ারপাড়া গ্রামের মরিচ চাষি সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর ১ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে শুকনা মরিচ বাজারে প্রতি কেজি ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, তার উৎপাদিত মরিচ প্রায় ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

ভেটুয়া চর এলাকার কৃষক ময়নাল হোসেন বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে ১ মণ কাঁচামরিচ বিক্রি করেছেন এবং আরও দুই মণ মরিচ শুকিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, শুকনা মরিচ বিক্রি করতে পারলে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হবে।