ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চুরি ঠেকাতে তাড়াশবাসীর রাতভর পাহারা, পুলিশের টহল জোরদার

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরি ও বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নিজেদের সম্পদ রক্ষায় মাঠে নেমেছেন গ্রামবাসী। পুলিশের পাশাপাশি রাত জেগে দলবদ্ধভাবে গ্রামে গ্রামে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে শতাধিক অস্থায়ী বাঁশের চেকপোস্ট। সেখানে সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সাকোইদিঘি, বিরোইল, খালকুলা ও নওগাঁ বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা পালাক্রমে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে বাঁশ ফেলে অস্থায়ী চেকপোস্ট তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে পরিচালিত এসব কার্যক্রমে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু-ছাগল চুরি ঠেকাতে তাড়াশ থানা পুলিশের টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৯টি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ৬ থেকে ৮ জন সদস্য রয়েছেন। তারা দিন-রাত পালাক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনপদে টহল দিচ্ছেন।
এছাড়া সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি খামারিদের পশু নিরাপদে রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৬৩৪টি গরু, ২ হাজার ৮১৪টি বলদ, ৩ হাজার ৪৫১টি বকনা, ১ হাজার ৭০টি মহিষ, ৪১ হাজার ৭১০টি ছাগল এবং ৩ হাজার ৯২০টি ভেড়া। অন্যদিকে উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৭০৫টি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে কোরবানির আগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র ট্রাক, পিকআপ ও ভুটভুটি ব্যবহার করে দ্রুত পশু নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে কোরবানির আগে বিভিন্ন এলাকায় গরু-ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাই সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবার পুলিশের পাশাপাশি গ্রামবাসীর সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের টহল ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’