টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুকুরে টানাটানির পর স্থানীয়দের খবরে মাটি খুঁড়ে সম্প্রতি মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার ছয়দিন পার হলেও এখনো তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে কোনো ধর্ষণের আলামত পাওয়া য়ায়নি। দুজনেরই পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেল ৬টার দিকে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া নদীর পাশে দুর্গন্ধ পান এলাকার কয়েকজন। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীর চুল দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মাটি খুঁড়ে ওই নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর ধারণা ৮-১০ দিন আগে ওই গর্ভবতী নারীকে হত্যা করে মাটিতে পুতে রাখা হয়।
মির্জাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, মাটি খুঁড়ে ওই নারীকে বের করার সময় তার সঙ্গে এক নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী প্রায় ৭-৮ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তার মৃত্যুর সময় নবজাতক প্রসব হয়। পরে দুজনকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে অজ্ঞাত ওই নারীকে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করা হয়েছে এমন খবর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, ছয় দিন আগে মির্জাপুরের নদীর তীরে বস্তা বন্দী একটি মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বস্তা ভরে মাটি চাপা দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। সদর হাসপাতালের আরএমও’র সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন ওই মহিলার ময়নাতদন্তের পর ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তার ডিএনএ টেস্টের জন্য আলামত রাখা হয়েছে। এ রিপোর্ট আসার পর আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
পুলিম সুপার আরও জানান, এখনো পর্যন্ত ওই মহিলার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মির্জাপুর একটি শিল্পাঞ্চল এলাকা। দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন এখানে কর্মজীবী হিসেবে বসবাস করেন। এ জন্য অজ্ঞতপরিচয় ওই মহিলার ছবি আমরা দেশের সব থানায় পাঠিয়েছি। আশা করি, দ্রুত সময়ে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


