× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ঠাকুরগাঁও ও বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর বদলে গেল কনে, আদালতে মামলা, কারাগারে বর 

ঠাকুরগাঁও ও বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বিয়ের পর বাসরঘর, আলো-ছায়ার ভেতর নতুন জীবনের শুরু—সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু কনে মুখ ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গেই থমকে যায় সবকিছু। রায়হান কবিরের অভিযোগ, যে মেয়েকে বিয়ের আগে দেখানো হয়েছিল বাসর রাতে সেই মেয়ে ছিলেন না। মুহূর্তেই আনন্দের ঘর রূপ নেয় অভিযোগ, সন্দেহ আর মামলায়।

এই ‘কনে বদল’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও কৌতূহল। সত্যিই কি পরিকল্পিত প্রতারণা, নাকি এটি একটি ভয়াবহ ভুল বোঝাবুঝি—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ।

ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায়। এখানেই জিয়ারুল হকের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের। বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ায় আদালত আর কারাগার পর্যন্ত!

ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে গত বছরের ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পাল্টা হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন।

উভয় পক্ষের মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রায়হান কবিরের মামা বাদল অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রায়হান কবিরের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। জুলাই মাসের শেষের দিকে রাণীশংকৈলের শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে ঘটক একটি মেয়েকে দেখান। মেয়েটিকে পাত্র ও উপস্থিত স্বজনদের পছন্দ হলে তা ঘটককে জানানো হয়। পরবর্তীতে মেয়েপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িতে এসে আত্মীয়তার প্রস্তাব দেয় এবং নতুন করে মেয়ে না দেখেই বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানায়। দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করার তাগিদও ছিল বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘রায়হান কবিরের দুলাভাই মানিক মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিনি দ্রুত বিদেশে ফিরে যাবেন এ কারণে আমরা বিয়ের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে চেয়েছিলাম। ১ আগস্ট রাত ১১টায় দুটি মাইক্রোবাসে করে আমরা মেয়ের বাড়িতে যাই। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ভোর ৪টার দিকে বাড়ি ফিরি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের রাতে কনে পরিবর্তনের বিষয়টি আমরা বুঝতে পারিনি। তবে বাসর রাতে মেয়ে মুখ ধোয়ার পর রায়হান কবির বুঝতে পারে, সে যে মেয়েকে বিয়ে করেছে সে অন্য কেউ। যে মেয়েকে আগে দেখানো হয়েছিল, তাকে কৌশলে বদল করা হয়েছে। ২ আগস্ট আমরা মেয়েটিকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিই এবং প্রতারণার কারণ জানতে চাই। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ঘটক ও মেয়ের বাবা পরিকল্পিতভাবে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে কনের বাবা জিয়ারুল হক বলেন, তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়ে জেমিন আক্তার রাণীশংকৈল মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

তিনি হবলেন, ‘ছেলেপক্ষ আমাদের বাসায় এসে মেয়েকে দেখে গেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী উপস্থিত ছিল। এমন অবস্থায় বিয়ের রাতে কনে বদল হয়েছে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘বিয়ের আগে কোনো যৌতুকের কথা বলা হয়নি। কিন্তু বিয়ের পরদিনই তারা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি জমি বিক্রি করে দেওয়ার কথাও বলেছি, কিন্তু তারা সময় দিতে রাজি হয়নি। এখন আমাকে হেয় করার জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঘটক মোতালেব বলেন, ‘আমি অন্য কোনো মেয়ে দেখাইনি। মেয়ে দেখানো হয়েছিল তার বাবার বাসাতেই। পরে তারা নিজেরাই দ্রুত বিয়ের প্রক্রিয়া শেষ করেছে। এরপরের ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ছেলেপক্ষের অভিযোগ মেয়েপক্ষ ও ঘটক মিলে কনে বদলের মাধ্যমে প্রতারণা করেছে। প্রথম দিকে মীমাংসার শর্তে রায়হান কবির জামিনে ছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি এখন পুরোপুরি বিচারাধীন। আমরা আশা করছি আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!