ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এমপি প্রার্থী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে, চিকিৎসা বিজ্ঞানী মির্জা সামারুহ তাঁর বাবার পক্ষে ভোট চেয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে উঠান বৈঠক ও খোলা বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া ঠাকুরগাঁওকে এগিয়ে নিতে ধানের শীষে ভোট চাইছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১ নম্বর রুহিয়া ইউনিয়নের কুজিশহর, ঘনিমহেশপুর ও ঘনিবিষ্টপুর গ্রামের সাধারণ নারী ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণসংযোগ করেন।
বক্তব্যে ফখরুল কন্যা মির্জা সামারুহ অদক্ষ নার্সের কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা এবং ওই পরিবারের কষ্টের কথা তুলে ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি নার্সিং কলেজ স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদের পরিবারের অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাঁর দাদা প্রয়াত মন্ত্রী চোখা মিয়ার অবদান। আজ ঠাকুরগাঁও এত সবুজ, এত কৃষিকাজ হচ্ছে—এর পেছনে তাঁর বাবার অবদান রয়েছে। কৃষিমন্ত্রী থাকাকালে তিনি উত্তরাঞ্চল গভীর নলকূপ প্রকল্পকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে রূপান্তর করেন। এর ফলে ঠাকুরগাঁওয়ে ধান, গম, ভুট্টা ও আলুর আবাদ শুরু হয়। কৃষিক্ষেত্রে যদি কোনো বিপ্লব হয়ে থাকে, তা তাঁর বাবার হাত ধরেই এসেছে।
তিনি আরও বলেন, কাজী ফার্মস লিমিটেডের মুরগির খামার স্থাপনের ফলে অনেক বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হয়েছে। শত শত স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে।
মির্জা সামারুহ বলেন, কেউ তাঁর বাবার কাছে কোনো কিছু চাইলে তিনি নিজের সাধ্যের মধ্যে থেকে তা পূরণের চেষ্টা করতেন। গত ১৭ বছর তাঁর বাবার সংগ্রাম ছিল ভিন্ন রকম। দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তাঁর ডাকে মানুষ সাড়া দিত। তাঁকে দমন করতে ১১ বার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
তিনি বলেন, বাবার সঙ্গে দেখা করতে তিনি বহুবার কারাগারে গেছেন। বাবা নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতেন না। বরং বলতেন, ঠাকুরগাঁও, ফেনী ও নোয়াখালীর অনেক ছেলে কীভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অনেকের শরীরজুড়ে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। এসব মানুষের কষ্টের কথাই তিনি বলতেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর মা যতবার কারাগারে গেছেন, বাবা অন্য বন্দিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতেন। নিজের জন্য কখনো কিছু চাইতেন না।
মির্জা সামারুহ বলেন, সরকার তাঁর বাবার চরিত্রে কালিমা লেপনের অনেক চেষ্টা করেছে। তাঁর বাবার জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য কিছু ভালো কাজ করা—এমন কাজ, যাতে ঠাকুরগাঁও উত্তরবঙ্গের জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ সময় তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, পুরাতন বিমানবন্দর নতুন করে চালু করা এবং ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্থানীয় ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, রুহিয়া থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মালেক মানিক, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপনসহ ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

