ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১১:০১ এএম
হরিপুর থানা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়া ও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলা যুবদলের নেতা শরিফকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে হরিপুর উপজেলার মেদেনীসাগর বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুণ অর রশিদ বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫-৪০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  হরিপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে জানা যায়, শুক্রবার হরিপুর উপজেলার মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে লোক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। ওই সময়  হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন ছাত্রদল ও যুবদলের ৩৫-৪০ জন সহযোগী নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার চাপ দেয়। একপর্যায়ে তারা ইউএনওকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় হামলাকারীরা সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে কলেজ অধ্যক্ষ ও বোর্ড প্রতিনিধির কাছ থেকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে জামাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা থানায় গিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ ও নিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধি মোতাহারা পারভীনকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনেন এবং মামলা না করতে হুমকি প্রদান করেন।

এ ঘটনায় থানা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন। শনিবার রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা ও এজাহার নামীয় আসামি শরিফকে (৩০) গ্রেপ্তার করেন। 

রোববার (১৫ মার্চ) সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

হরিপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের নিয়োগ পরীক্ষার খাতাপত্র ছিনতাই, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।