ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট নিরসনে এবং মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ সুষ্ঠুভাবে বিতরণ ও জনদুর্ভোগ লাঘব করতে ‘ফুয়েল কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে সোমবার জেলার পাঁচ উপজেলায় ফুয়েল কার্ড পেতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির ফিল্ড অফিসার, মাঠকর্মী ও সাংবাদিকদের সকাল থেকেই তেলের প্রয়োজন হয়। সংবাদের খোঁজে ছুটতে হয় তাদের। কিন্তু তেল না পেয়ে এসব পেশাজীবী মানুষ কাজ করতে পারছেন না। অনেকে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন তেলের জন্য। কিন্তু বেশিরভাগ পাম্পে নোটিশ সাঁটানো রয়েছে। তাতে লেখা- পেট্রোল নেই, অকটেন নেই। শুধু তাই নয়, অনেক পাম্পের মুখে ড্রাম কিংবা বাঁশ বসানো হয়েছে। এক কথায়, জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার চলছে ঠাকুরগাঁও জেলায়।
এদিকে মোটরসাইকেল চালকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন বিশেষ জ্বালানি কার্ড চালু করেছে। এর মাধ্যমে একজন মোটরসাইকেল চালক তিন দিনে কমপক্ষে ৫ লিটার, সাত দিনে ১০ লিটার এবং ১২ দিনে ১৫ লিটার তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এই কার্ড দিয়ে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে তেল সংগ্রহ করা যাবে এবং জ্বালানি কার্ড ছাড়া কাউকে তেল দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন রোববার একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলার বৈধ মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ৪ এপ্রিলের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার সব বৈধ মোটরসাইকেলের চালককে ‘ফুয়েল কার্ড’ সংগ্রহ করতে হবে।
এজন্য মূল জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ স্টেশন ও পৌরসভার বরাবরে।
এদিকে সোমবার সকাল থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ, উপজেলা ভূমি অফিস এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় কার্ড প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ সময় শত শত মোটরসাইকেল চালক ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। পৌর এলাকার বাসিন্দাদের পৌরসভা কার্যালয়ে, রুহিয়া থানা এলাকার ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সংশ্লিষ্ট থানায় এবং ভুল্লি থানার বাসিন্দাদের ভুল্লি থানায় জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার বাসিন্দাদের স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভা কার্যালয়ে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
আর ঠাকুরগাঁও জেলায় যারা চাকরি বা অন্যান্য সূত্রে অবস্থান করছেন, তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ‘ফুয়েল কার্ড’ সংগ্রহ করতে হবে।
এই কার্ড সংগ্রহ করতে সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন ভেন্যুতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দায়িত্বপ্রাপ্তদের ধীরগতির কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া ৫ এপ্রিল থেকে কোনো মোটরসাইকেল চালককে তেল সরবরাহ করা হবে না। কার্ডটি বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে যেসব মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, সেসব গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জেলায় ৩৭টি পেট্রোল ও ডিজেল ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪টি, বালিয়াডাঙ্গীতে দুটি, হরিপুরে দুটি, রানীশংকৈলে পাঁচটি এবং পীরগঞ্জ উপজেলায় চারটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে।
-20260330155828.webp)


