ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ছাত্রদল-গণঅধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ

রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
ছাত্রদল ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় গভীর রাতে পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) কার্যালয় খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মবহির্ভূত রাতে অফিস খোলা রেখে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পিআইও কার্যালয়ে যান। এ সময় নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় নেতা এবং ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মামুনুর রশিদ।

কার্যালয়ে প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অফিস সহকারী আইয়ুব বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে তাদের আটকে রাখেন।

পরে ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকার ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের পুনরায় সংঘর্ষ বাধে বলে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তা তুমুল সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।

এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে কেন অফিস খোলা রাখা হয়েছে। তা জানতে চাইলে আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়। পরে আমাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়।

অন্যদিকে পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রানীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে প্রকল্পের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ইউপি সদস্যকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বাচোর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আক্কাশ আলী তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া রানীশংকৈলে যোগদানের পর থেকেই পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অফিস কক্ষে ধূমপানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে তার অপসারণ দাবিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।

মানববন্ধনের সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।