ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা সরকারপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ সৈয়দা পারভিনের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জয়নুল আবেদিন নামে এক ব্যক্তি সোমবার (২০ এপ্রিল) ঠাকুরগাঁও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে এ-সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা সরকারপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ সৈয়দা পারভিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ভুয়া বিএসএস (অনার্স) সার্টিফিকেট ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করছেন।
সনদপত্রের আইডি/রোল নং 00SP 4440018, রেজিস্ট্রেশন নং 0044018, পাসের সাল ২০০৩, প্রাপ্ত মার্কস ৩.৫০, সেশন ২০০০ (SP)–২০০৩, ক্রমিক নং-১১৮ এবং সনদ ইস্যুর তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০০৪। অথচ তার নামে জারি করা সনদ সরকারি ওয়েবসাইটে তল্লাশি করলে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এতে ধারণা করা হচ্ছে যে, তার সার্টিফিকেটটি জাল।
তার জাল সনদ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ সৈয়দা পারভিনের বিচার দাবি করেছেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে তার স্থলে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি খেয়ালখুশিমতো স্কুল পরিচালনা করেন এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে এলাকার বাইরে থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাড়া করে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
মকলেসুর রহমান ও আব্দুল করিম নামে স্থানীয় দুই বাসিন্দা বলেন, স্কুল নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামী বলেন, আমরা স্কুল স্থাপন করেছি। আমরা স্কুলে জমি দিয়েছি। কেউ কিছু বললেই অপমান করে বলেন- ‘এখানে আপনার কী আছে?’
স্থানীয় কয়েকজন নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাত্র ৮ থেকে ১০ জন ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতির চেয়েও কম। আমরা যদি কিছু বলি, সে জন্য স্কুল মাঠেও যেতে দেন না প্রধান শিক্ষিকা ও তার স্বামী।
এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ সৈয়দা পারভিন বলেন, আমি অসুস্থ, আপনি আমাকে কী করছেন? পরে তার স্বামী আজিমুল হক বলেন, আমাদের সব সার্টিফিকেট জাল। তাতে আপনার কী?
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আরিফুল্লাহ বলেন, এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহিন আখতার বলেন, জাল সনদে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি করা এবং সরকারি ভাতা ভোগ করার সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

