ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডের সময় ছাদে তালা, স্থানীয়দের ক্ষোভ

তাওহীদ কবির
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু এবং অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় ছাদে তালা থাকায় কেউ আত্মরক্ষা করতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নং সেক্টর, ১৮ নম্বর রোডে ৩৪ নং বাড়ির সাততলা ভবনে ঘটে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত দ্বিতীয় তলায়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক ইউনিট আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতরা হলেন- ফাজলে রাব্বি (৩৮), হারিস (৫২), রহাব (১৭), রোদেলা আক্তার (১৪), আফসানা এবং প্রায় আড়াই বছর বয়সী শিশু রিসান। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে ফাজলে রাব্বি, হারিস ও রহাবকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর তারা মারা যান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া রোদেলা আক্তার, আফসানা ও শিশু রিসানও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসকরা জানান, অধিকাংশের মৃত্যু ধোঁয়া ও দগ্ধ হওয়ার কারণে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘন ধোঁয়া ও আগুনে নিচের পথও বন্ধ হয়ে গেলে ছাদই হতে পারত শেষ আশ্রয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনটির এক বাসিন্দা বলেন, ছাদ খোলা থাকলে হয়তো মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম হতো।

স্থানীয়দের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকারি পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত, যাতে কোনো আবাসিক ভবনের ছাদে তালা দেওয়া না হয়, জরুরি নির্গমন পথ বন্ধ না হয় এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হয়।

উত্তরা ১১ নং সেক্টর ২০ নম্বর রোডের বাসিন্দা দেওয়ান আশরাফ বলেন, বাড়িওয়ালারা তাদের স্বার্থে ভাড়া বা নিরাপত্তার কথা ভাবেন না। আজ অনেক প্রাণ গেল। এমন অবহেলা আইনের আওতায় আনা উচিত।

এমন ঘটনায় শুধু একটি ভবনের নয়, রাজধানীর অসংখ্য আবাসিক ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের আহাজারি এবং ক্ষোভ এখন প্রশ্ন তুলছে—এই মৃত্যু কি শুধুই আগুনের, নাকি অবহেলারও?