আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’-এর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার নিয়ামা ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন নাবিলা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সংগঠনের সভানেত্রী ড. শামীমা তাসনীম বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন শুধু নারীদের বিষয় নয়; এটি একটি সামগ্রিক সামাজিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন জাইমা। এরপর ‘ইতিহাস বিনির্মাণ: প্রজ্ঞায় ও নেতৃত্বে নারী’ শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদ আবরার ফাহাদের মা মোসাম্মৎ রোকেয়া খাতুন এবং গুমের শিকার ব্যারিস্টার আরমানের মা খন্দকার আয়েশা খাতুন ও স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। বক্তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামী। তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার খবর বিশেষ করে নাবালিকা কন্যাশিশুর ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনা গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। এমন ঘটনা সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও একজন কন্যাসন্তানের বাবা। সেই জায়গা থেকে প্রত্যাশা থাকবে, তিনি বিষয়টিকে একজন বাবার অনুভূতি দিয়ে দেখবেন এবং এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন, যেখানে প্রতিটি মেয়ে তার বাবাকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে এটাই সবার প্রত্যাশা। রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হবে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি মেয়ে নিজেকে নিরাপদ ও আশ্বস্ত মনে করতে পারে। পরে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ড. ফেরদৌস আরা খানম। তিনি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান। দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

