স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের কাছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখনও শেষ ভরসার জায়গা। ঈদের ছুটিতেও স্বাস্থ্যসেবায় সরব রয়েছে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগ। ইনডোরে ঈদের দিনেও ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। চালু রয়েছে প্যাথলজি, এক্স-রেসহ অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা।
ঈদের দিনে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার খোঁজ নিতে এসে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. আশরাফুল আলম বলেন, ঈদের দিনেও দুই হাজারের বেশি রোগী ভর্তি আছেন ঢাকা মেডিকেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। ঈদের ছুটিতেও প্রায় তিন শত চিকিৎসক, পাঁচ শতাধিক নার্স এবং হাজার খানেক অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রোস্টার অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। প্যাথলজি, রেডিওলজি বিভাগসহ সকল জরুরি সেবা ঈদের ছুটিতেও চালু রয়েছে।
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা মেডিকেলের সেবার দরজা কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, একবারের জন্যও নয়। ২ হাজার ৬০০ বেডের এই হাসপাতালে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার রোগী ভর্তি থাকে এবং বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন আরও ৭ হাজার রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকেন হাসপাতাল থেকে। সম্পদের সীমাবদ্ধতা, জনবলের ঘাটতি এবং কিছু আচরণগত সমস্যা সব মিলিয়ে ঢাকা মেডিকেলের কাজটা অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করার মতো। ৩৬৫ দিনের এই বিরতিহীন যুদ্ধে ‘না’ বলার সুযোগ নেই এখানে।
ঢাকা মেডিকেল সাধারণত কাউকে ফেরায় না, রোগীদের কষ্টের কথা ভেবেই। দেশসেরা এই মেডিকেলের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সীমিত সম্পদ নিয়েই রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোর কঠিনতম কাজটি করে যাচ্ছেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডা. আশরাফুল বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল পরিবারের সকল সদস্যের কাছে এবারের ঈদের আনন্দ কিছুটা বেশি। তিনি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং হাসপাতালের উন্নয়নে তাদের আরও সহযোগিতা কামনা করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন