অপারেশনাল উৎকর্ষতা ও উড্ডয়ন নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উদ্যোগে ‘কমান্ড সেফটি সেমিনার-২০২৬’ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের ফ্যালকন হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি সেমিনারে ফ্লাইট সেফটি ট্রফি বিতরণ করেন এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা) এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান নিয়মিত এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিমান বাহিনী সদর দপ্তরের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বাহিনীর নিরাপত্তা সংস্কৃতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সেমিনারে বিভিন্ন ঘাঁটির এয়ার অধিনায়করা নিজ নিজ ইউনিটে গৃহীত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ ও সেরা অনুশীলনের ওপর বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন। ফ্লাইট সেফটি পরিচালক ২০২৫ সালের উড্ডয়ন সংক্রান্ত ঘটনাবলির ওপর একটি বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়াতে গৃহীত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়া ‘ফ্রম রিএক্টিভ টু প্রোঅ্যাকটিভ: ডাটা-ড্রিভেন সিকিউরিটি কালচার’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে তথ্যভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পূর্বাভাসমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান সাম্প্রতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সত্ত্বেও বাহিনীর উড্ডয়ন সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ মহড়া, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ফেরি ফ্লাইট, জাতীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, ভিভিআইপি দায়িত্ব, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মেডিভ্যাক/ক্যাসেভ্যাক অপারেশনে সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব এবং প্রতিটি ঘাঁটি ও সকল পর্যায়ের সদস্যদের এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। কমান্ডারদের তিনি নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদাহরণ সৃষ্টি করে অগ্রগামী নিরাপত্তা মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সেমিনারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক ট্রফি প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার ‘আন্তঃঘাঁটি ফ্লাইট সেফটি ট্রফি’ অর্জন করে। উড্ডয়ন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ স্কুল (এফআইএস) ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ নিরাপদ উড্ডয়ন ঘণ্টা অর্জনের জন্য ‘আন্তঃবহর খাদেমুল বাশার ফ্লাইট সেফটি ট্রফি’ লাভ করে।
এছাড়া, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান প্রকৌশল বহর ‘বেস্ট এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং স্কোয়াড্রন ট্রফি’ অর্জন করে এবং ১০১ স্পেশাল উড্ডয়ন ইউনিট ‘অ্যাকসিডেন্ট-ফ্রি ইয়ার অ্যাওয়ার্ড ট্রফি’ লাভ করে।
অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিমানসেনারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ মিশন এলাকাসহ বিভিন্ন ঘাঁটি, স্টেশন ও ইউনিটের সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন