ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বহির্গমন কেন্দ্র আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বাস সংকট, নির্ধারিত সময়ের শিডিউল বিপর্যয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। দীর্ঘ যানজটে আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে।
রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং ও আব্দুল্লাহপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে সড়কের পাশে শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় অবস্থান করছেন। একের পর এক দূরপাল্লার বাস বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও যাত্রীর চাপের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়।
মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনালে যাত্রীর উপস্থিতি কয়েকগুণ বেশি। বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত মানুষ, কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদের। পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ছিল অতিরিক্ত চাপ, আর যাত্রী ডাকার হাঁকডাকে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
উত্তরবঙ্গগামী এক যাত্রী মমিন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দুইটি টিকিটের জন্য তার কাছ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে থাকে। নির্ধারিত সময় পার হলেও বাস না আসায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাটোরগামী আরেক যাত্রী জানান, সাধারণ সময়ে ৬০০ টাকার টিকিট ঈদ উপলক্ষে ১ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বাস না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন একটি পরিবহনের ব্যবস্থাপক। তার দাবি, রাজধানীতে যানজটের কারণে গাড়ি ছাড়তে দেরি হচ্ছে, তবে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে না।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা।

