রাজধানীর ধানমন্ডিতে ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা নামের এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং পোস্টমর্টেম ছাড়াই লাশ দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৪(ক)/১৯৩/১৯৭/২০১/১০৯/৩৪ ধারায় মামলাটির আবেদন করেন মো. মশিউর রহমান শাহ। আদালত আবেদন গ্রহণ করে আদেশের জন্য রেখেছেন।
আবেদনে ধীপ্রার শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা, স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ (বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিয়াক বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল) এবং ইয়ার্কি সম্পাদক সিমক নাসেরকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও কয়েকজন আসামি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ধীপ্রার অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং পোস্টমর্টেম ছাড়াই মরদেহ দাফন করে আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, পড়াশোনার সময় ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার সঙ্গে সহপাঠী ডা. রহমত রশীদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে বিয়েতে রূপ নেয়। তাদের ২ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আর্থিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল পরিবার থেকে আসায় বিয়ের পর থেকেই ধীপ্রাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এতে তিনি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক চাপসহ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।
এতে আরও বলা হয়, চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তার চিকিৎসা ব্যয় বহনে অবহেলা করা হয় এবং এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বাধা দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে লিখেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২ জুন থেকে টানা তিন দিন তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ রাখা হয় এবং খাবার দেওয়া হয়নি। এ সময় তার দুই বছর বয়সী সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ৪ জুন তার মা ধানমন্ডির ‘বসতী গ্রীন’ আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে মেয়ে ধীপ্রাকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি ধীপ্রার স্বামীকে তালা খুলে দিতে অনুরোধ করলে তিনি তালা খুলে দেন। ঘর থেকে মুক্ত হয়েই ডা. ধীপ্রা তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মা, আমি ভাত খাব।’ এই কথা বলার পরপরই তিনি ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর তাকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন স্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে ধীপ্রার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর শ্বশুর ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদের প্রভাব ব্যবহার করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং আলামত ধ্বংসের চেষ্টা। প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, আসামিদের প্রভাবশালী অবস্থান এবং পরিবারের অসহায়ত্বের কারণে শুরুতে আইনগত পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়। মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন