বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেও দিন দিন বেড়েই চলেছে বায়ুদূষণ। বৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে দূষণ কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে ঢাকার বাতাস এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
রোববার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ৯৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৩তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এ স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বাতাসের মান ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তুলনামূলকভাবে, একই সময়ে ভারতের দিল্লি ৪৪৬ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ৩৩৯), তৃতীয় স্থানে করাচি (২০৬), চতুর্থ স্থানে চীনের সাংহাই (১৯৭) এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা (স্কোর ১৬৪)।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইটভাটা ও শিল্পকারখানার বর্জ্য ঢাকার বায়ুদূষণের মূল কারণ। যদিও বৃষ্টির পর বাতাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে, তবে এই পরিবর্তন অল্প সময়ের জন্যই স্থায়ী হয়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বায়ুদূষণ রোধে টেকসই নগর পরিকল্পনা, যানবাহনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং সবুজায়ন বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন